মরিশাস ভিসার দাম কত ২০২৬ এই প্রশ্নটি বর্তমানে অনেক বাংলাদেশির মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে যারা কম খরচে বিদেশে কাজ করতে চান, তাদের জন্য মরিশাস একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তুলনামূলক ভালো বেতন, নিরাপদ জীবনযাপন এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার জন্যও পরিচিত। তাই ২০২৬ সালে মরিশাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আগে থেকেই মরিশাস ভিসার দাম কত, কীভাবে আবেদন করতে হয় এবং মোট খরচ কত হতে পারে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি।
মরিশাস কেন বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রিয় কাজের দেশ
বাংলাদেশের তুলনায় মরিশাসে কাজের বেতন বেশ ভালো। বিশেষ করে গার্মেন্টস, কনস্ট্রাকশন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেক্টরে নিয়মিত কর্মীর চাহিদা রয়েছে। জীবনযাত্রার মানও তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ায় অনেকেই এখানে কাজ করতে আগ্রহী হন।
আরেকটি বড় সুবিধা হলো, ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তুলনায় মরিশাসে যাওয়ার মোট খরচ কম। যারা প্রথমবার বিদেশে কাজ করতে চান, তাদের জন্য মরিশাস একটি ভালো শুরু হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মরিশাস ভিসার দাম কত ২০২৬ সালে তা জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মরিশাস ভিসার ধরন ও ক্যাটাগরি
মরিশাসে যাওয়ার জন্য ভিসার ধরন অনুযায়ী খরচ ও শর্ত আলাদা হয়ে থাকে। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু ভিসা ক্যাটাগরি তুলে ধরা হলো:
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
এই ভিসাটি মূলত যারা কাজের উদ্দেশ্যে মরিশাস যেতে চান, তাদের জন্য। জব অফার লেটার থাকলে এই ভিসার আবেদন করা যায়।
গার্মেন্টস ভিসা
গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করার জন্য এই ভিসার চাহিদা বেশি। তুলনামূলকভাবে এর খরচ কম হয়ে থাকে।
কনস্ট্রাকশন ভিসা
রাজমিস্ত্রি, হেল্পার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বারসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজে নিয়োজিতদের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়।
স্টুডেন্ট ভিসা
যারা মরিশাসে পড়াশোনা করতে চান, তাদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রযোজ্য। এই ভিসার খরচ সাধারণত অন্যান্য ভিসার তুলনায় কিছুটা বেশি।
মরিশাস ভিসার দাম কত ২০২৬ সালে
২০২৬ সালে মরিশাস ভিসার দাম ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে মরিশাস ভিসার মোট খরচ সাধারণত ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
গার্মেন্টস ভিসার ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। অন্যদিকে স্টুডেন্ট ভিসা বা বিশেষ স্কিলড ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মরিশাস সরকার ভিসা আবেদন করার জন্য আলাদা কোনো সরকারি ফি নেয় না। মূল খরচগুলো মূলত প্রসেসিং, মেডিকেল, কাগজপত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য হয়ে থাকে।
মরিশাস ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মরিশাস ভিসা আবেদন করার সময় কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ভিসার ধরন অনুযায়ী কাগজপত্রে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তবে সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়:
-
বৈধ পাসপোর্ট
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
-
জাতীয় পরিচয়পত্র
-
স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ
-
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
-
জব অফার লেটার
-
স্কিল সার্টিফিকেট
-
ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট
-
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
সব কাগজপত্র সঠিক ও আপডেট থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট থাকলে ভিসা প্রসেসিং দেরি হতে পারে।
মরিশাস ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
মরিশাস ভিসা পাওয়ার জন্য প্রথমে ভিসা আবেদন করতে হয়। মরিশাসের ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। চাইলে সরাসরি মরিশাসের ভিসা অফিসেও আবেদন করা সম্ভব।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—বাংলাদেশে বর্তমানে মরিশাসের কোনো দূতাবাস নেই। সে কারণে অনেক সময় ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ইন্ডিয়া হয়ে আবেদন করতে হয়। অনেকেই ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে পুরো প্রসেস সম্পন্ন করে থাকেন, এতে ঝামেলা কিছুটা কম হয়।
বাংলাদেশ থেকে মরিশাস যেতে মোট কত টাকা লাগে
শুধু মরিশাস ভিসার দাম জানলেই চলবে না, মোট ভ্রমণ খরচ সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মরিশাস যেতে মোট খরচ সাধারণত ২ লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এই খরচের মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:
-
ভিসা প্রসেসিং খরচ
-
মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
-
এজেন্সি সার্ভিস চার্জ
-
বিমান টিকিট
-
অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ
ভিসার ক্যাটাগরি, এয়ারলাইন্স ও প্রসেসিং পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কমবেশি হতে পারে।
২০২৬ সালে যারা কম খরচে বিদেশে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য মরিশাস একটি বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ বিকল্প। মরিশাস ভিসার দাম কত ২০২৬ সালে—এই প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি ভিসা ক্যাটাগরি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং মোট খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে এগোলে মরিশাসে কাজের সুযোগ পাওয়া সম্ভব এবং ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়ার পথও খুলে যেতে পারে।









Add comment